অর্গানিক ফুড, ন্যাচারাল ফুডস

কলাই আটার রুটি বানানোর নিয়ম: নরম ও সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী রেসিপি

কলাই আটার রুটি বানানোর নিয়ম

Quick Answer

ঐতিহ্যবাহী কলাই রুটি বানাতে সাধারণত মাসকলাইয়ের আটা ও চালের গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে অল্প অল্প পানি দিয়ে শক্ত কিন্তু মসৃণ খামির তৈরি করা হয়। ভালো মানের আটা বেছে নিতে চাইলে Arphi Shop-এর গ্রোসারি কালেকশন দেখতে পারেন।

কলাই রুটি বানানোর দ্রুত ধাপ

  1. আটা মেশান: ১ কাপ কলাই আটা ও ২ কাপ চালের গুঁড়া একসঙ্গে মেশান।
  2. লবণ দিন: স্বাদ অনুযায়ী প্রায় ½ চা চামচ লবণ যোগ করুন।
  3. পানি দিন: অল্প অল্প করে কুসুম গরম পানি দিয়ে শক্ত খামির করুন।
  4. খামির মাখুন: হাতের তালু দিয়ে কয়েক মিনিট ঠেসে মসৃণ করুন।
  5. রুটি তৈরি করুন: লেচি নিয়ে হাত দিয়ে চাপুন অথবা বেলন ব্যবহার করুন।
  6. সেঁকে নিন: ভালোভাবে গরম তাওয়া বা মাটির খোলায় দুই পাশ সেঁকে পরিবেশন করুন।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের খাবারের কথা উঠলে কলাই রুটি আলাদা জায়গা করে নেয়। ঘরেও এটি বানানো যায়, তবে সাধারণ গমের রুটির মতো খামির করলে ফল ভালো নাও হতে পারে।

এই গাইডে আমি সহজ অনুপাত, খামির তৈরির কৌশল, রুটি ভেঙে যাওয়ার সমাধান এবং কোন খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করবেন—সব এক জায়গায় দেখাচ্ছি।

Table of Contents

কলাই রুটি কী এবং এটি কী দিয়ে তৈরি হয়?

কলাই রুটি হলো মাষকলাই বা মাসকলাইয়ের গুঁড়া এবং চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী মোটা রুটি। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে এটি বিশেষভাবে পরিচিত।

সহজ সংজ্ঞা: মাসকলাইয়ের ডাল গুঁড়া করে পাওয়া আটাকে চালের গুঁড়ার সঙ্গে মিশিয়ে পানি দিয়ে খামির তৈরি করে মোটা রুটি বানানোই ঐতিহ্যবাহী কলাই রুটির মূল পদ্ধতি।

এখানে “কলাই” বলতে সাধারণত মাষকলাই বা মাসকলাই বোঝানো হয়। শুধু সাধারণ গমের আটার রুটিকে কলাই রুটি বলা হয় না।

  • মূল উপাদান: মাসকলাইয়ের আটা বা গুঁড়া
  • সহায়ক উপাদান: চালের গুঁড়া
  • ঐচ্ছিক উপাদান: সামান্য গমের আটা
  • স্বাদের জন্য: লবণ
  • খামিরের জন্য: প্রয়োজনমতো পানি

ঐতিহ্যবাহী কলাই রুটিতে কলাই আটা ও চালের গুঁড়ার অনুপাত কত?

একটি নির্দিষ্ট অনুপাতই একমাত্র সঠিক নয়। পরিবার, অঞ্চল এবং কাঙ্ক্ষিত টেক্সচার অনুযায়ী চালের গুঁড়া ও মাষকলাইয়ের আটার পরিমাণ বদলায়।

প্রকাশিত কয়েকটি বাংলা রেসিপিতেও এই পার্থক্য দেখা যায়। তাই প্রথমবার বানালে সহজে সামলানো যায় এমন অনুপাত দিয়ে শুরু করাই ভালো।

রেসিপি ধরনমাষকলাইচালের গুঁড়াঅন্য আটাকাদের জন্য ভালো
চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টাইল১ কাপ৩ কাপনেইঐতিহ্যবাহী স্বাদ
সহজ ঘরোয়া অনুপাত১ কাপ২ কাপনেইপ্রথমবার বানানোর জন্য
নরম ও সহজে বেলা যায়১ কাপ⅓ কাপ¼ কাপ গমের আটাবেলন দিয়ে বানাতে সুবিধা

এই গাইডের মূল রেসিপিতে আমি ১ কাপ কলাই আটা ও ২ কাপ চালের গুঁড়া ব্যবহার করছি। এতে ঐতিহ্যবাহী স্বাদ থাকে এবং নতুনদের জন্য খামির সামলানো তুলনামূলক সহজ হয়।

কলাই আটার রুটি বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে?

মূল রেসিপির জন্য খুব বেশি উপকরণ প্রয়োজন নেই। প্রায় ৫–৬টি মাঝারি বা মোটা রুটি বানাতে নিচের পরিমাণ দিয়ে শুরু করতে পারেন।

  • কলাই বা মাসকলাইয়ের আটা: ১ কাপ
  • চালের গুঁড়া: ২ কাপ
  • লবণ: ½ চা চামচ বা স্বাদমতো
  • কুসুম গরম পানি: প্রায় ১¼–১½ কাপ, প্রয়োজন অনুযায়ী
  • শুকনা চালের গুঁড়া: বেলার সময় প্রয়োজনমতো

পানির সঠিক পরিমাণ আটার আর্দ্রতা ও গুঁড়ার সূক্ষ্মতার ওপর নির্ভর করে। তাই একবারে সব পানি ঢেলে দেবেন না।

আপনি যদি অন্য ধরনের আটার ব্যবহার নিয়েও জানতে চান, Arphi Shop-এর যবের আটা ও যবের ছাতু নিয়ে গাইড দেখতে পারেন।

কলাই আটার রুটি বানানোর নিয়ম কী?

ভালো কলাই রুটির মূল রহস্য হলো পানি অল্প অল্প দেওয়া, খামির ভালোভাবে মাখা এবং তাওয়া আগে থেকে গরম করা। নিচের ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করুন।

  1. শুকনা উপকরণ মেশান: বড় একটি পাত্রে কলাই আটা, চালের গুঁড়া ও লবণ দিন। হাত দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  2. পানি অল্প করে দিন: প্রথমে অর্ধেক পানি দিন। আঙুল দিয়ে আটা ও পানি মেশাতে থাকুন।
  3. খামির তৈরি করুন: প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পানি দিন। খামির সাধারণ গমের রুটির খামিরের তুলনায় একটু শক্ত রাখুন।
  4. ঠেসে মাখুন: হাতের তালুর গোড়া দিয়ে কয়েক মিনিট চাপ দিয়ে মাখুন। এতে আলাদা আলাদা গুঁড়া একসঙ্গে ভালোভাবে ধরে।
  5. অল্প সময় ঢেকে রাখুন: প্রায় ১০ মিনিট ভেজা কাপড় বা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে পারেন। এতে আর্দ্রতা সমানভাবে ছড়িয়ে যায়।
  6. লেচি তৈরি করুন: খামির থেকে বড় লেবুর সমান অংশ নিন। কলাই রুটি সাধারণ রুটির তুলনায় একটু মোটা রাখা ভালো।
  7. হাতে চাপুন বা বেলুন: হাত ভিজিয়ে দুই তালুর মধ্যে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চাপতে পারেন। চাইলে চালের গুঁড়া ছড়িয়ে বেলন দিয়েও বেলতে পারেন।
  8. গরম তাওয়ায় দিন: মোটা লোহার তাওয়া বা মাটির খোলা ভালোভাবে গরম করুন। রুটি দিয়ে প্রথম পাশ সেট হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  9. উল্টে সেঁকুন: অন্য পাশেও বাদামি ছোপ পড়া পর্যন্ত সেঁকুন। প্রয়োজন হলে মাঝারি আঁচে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কিনারা সেঁকে নিন।
  10. গরম পরিবেশন করুন: চুলা থেকে নামিয়ে দ্রুত পরিবেশন করলে টেক্সচার ও স্বাদ সবচেয়ে ভালো থাকে।

কলাই রুটি বেলার সময় কেন ভেঙে যায়?

কলাই রুটি ভেঙে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো খামিরে পানির ভারসাম্য ঠিক না থাকা। খুব শুকনা খামির চাপ দিলে কিনারা ফেটে যায়।

আবার অতিরিক্ত পানি দিলে রুটি তাওয়া বা পিঁড়িতে লেগে যেতে পারে। সমস্যাটি দেখে সমাধান বেছে নিন।

সমস্যাসম্ভাব্য কারণকী করবেন
কিনারা ফেটে যাচ্ছেখামির বেশি শুকনাহাতে সামান্য পানি নিয়ে আবার মাখুন
রুটি উঠছে নাঅতিরিক্ত নরম খামিরসামান্য চালের গুঁড়া যোগ করুন
বাইরে পুড়ে ভেতর কাঁচাআঁচ বেশিপ্রথমে গরম তাওয়া, পরে মাঝারি আঁচ ব্যবহার করুন
রুটি বেশি শক্তখুব পাতলা বা দীর্ঘ সময় সেঁকাএকটু মোটা রাখুন এবং অতিরিক্ত সেঁকবেন না

হাতে নাকি বেলন দিয়ে কলাই রুটি বানানো ভালো?

দুই পদ্ধতিতেই কলাই রুটি বানানো যায়। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে হাতের তালু দিয়ে চাপতে চাপতে মোটা গোল রুটি তৈরি করা হয়।

  • হাতে তৈরি: ঐতিহ্যবাহী টেক্সচার পাওয়া যায় এবং ভঙ্গুর খামির সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • বেলন ব্যবহার: আকার সমান রাখা সহজ, তবে খামির ঠিক না হলে কিনারা ফাটতে পারে।
  • নতুনদের জন্য: প্রথমে ছোট লেচি দিয়ে তুলনামূলক ছোট রুটি বানানো সহজ।

বেলন ব্যবহার করলে পিঁড়ি ও রুটির ওপর অল্প চালের গুঁড়া ছড়িয়ে নিন। বেশি শুকনা গুঁড়া ব্যবহার করলে রুটি শক্ত হয়ে যেতে পারে।

কলাই রুটি নরম করার উপায় কী?

কলাই রুটি সাধারণ গমের রুটির মতো খুব নরম হওয়াই লক্ষ্য নয়। এর নিজস্ব ঘন ও সামান্য শক্ত টেক্সচারই ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্যের অংশ।

তবে অতিরিক্ত শক্ত হওয়া ঠেকাতে কয়েকটি বিষয় কাজে দেয়।

  • পানি ধীরে দিন: খামির শুকনা রেখে দেবেন না।
  • ভালোভাবে মাখুন: হাতে ঠেসে মাখলে আর্দ্রতা সমান হয়।
  • অতিরিক্ত পাতলা করবেন না: একটু মোটা রুটি ভেতরে তুলনামূলক নরম থাকে।
  • অতিরিক্ত সেঁকবেন না: দুই পাশ হয়ে গেলে দীর্ঘ সময় তাওয়ায় রাখবেন না।
  • চাইলে সামান্য গমের আটা দিন: বেলা সহজ করতে অল্প গমের আটা ব্যবহার করা যায়, যদিও এটি ঐতিহ্যবাহী চাল-কলাই অনুপাত বদলে দেয়।

শুধু কলাই আটা দিয়ে কি রুটি বানানো যায়?

শুধু কলাই আটা দিয়েও রুটি তৈরির চেষ্টা করা যায়, কিন্তু খামির তুলনামূলক ভঙ্গুর হতে পারে। ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টাইলে চালের গুঁড়া যোগ করা বহুল প্রচলিত।

প্রথমবার বানালে শুধু কলাই আটা ব্যবহার না করে চালের গুঁড়ার সঙ্গে মেশানো সহজ। পরে নিজের পছন্দ অনুযায়ী অনুপাত পরিবর্তন করতে পারেন।

  • বেশি চালের গুঁড়া: স্বাদ তুলনামূলক হালকা হয়।
  • বেশি কলাই আটা: কলাইয়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ বেশি পাওয়া যায়।
  • সামান্য গমের আটা: খামিরের binding বাড়াতে সাহায্য করে।

কলাই রুটি কোন খাবারের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো লাগে?

গরম কলাই রুটির সঙ্গে ঝাল ভর্তা সবচেয়ে পরিচিত পরিবেশন পদ্ধতিগুলোর একটি। মাংসের ঘন ঝোলের সঙ্গেও এই রুটি ভালো মানায়।

  • বেগুন ভর্তা: পোড়া বেগুন, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও সরিষার তেলের স্বাদ ভালো মানায়।
  • পেঁয়াজ-মরিচ ভর্তা: দ্রুত তৈরি করা যায় এবং রুটির সঙ্গে তীব্র স্বাদ দেয়।
  • টমেটো ভর্তা: টক-ঝাল স্বাদ কলাই রুটির ঘন স্বাদের ভারসাম্য আনে।
  • শুকনা মরিচ ভর্তা: ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনে জনপ্রিয় একটি ঝাল সঙ্গী।
  • গরুর মাংস: ঘন ঝোল বা ভুনা ধরনের রান্নার সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।
  • হাঁসের মাংস: শীতের সময় কলাই রুটির সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ খাবার তৈরি হয়।

কলাই আটা পুষ্টিকর কি?

মাসকলাই ডালজাতীয় বা legume খাবারের অংশ। ডাল ও অন্যান্য legumes সাধারণভাবে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন খনিজের উৎস হিসেবে পরিচিত।

Harvard T.H. Chan School of Public Health-এর Legumes and Pulses গাইডে legumes-কে protein, fiber, folate ও iron-এর উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • উদ্ভিজ্জ প্রোটিন: দৈনন্দিন খাদ্যে প্রোটিনের একটি উদ্ভিদভিত্তিক উৎস যোগ করে।
  • খাদ্যআঁশ: ডালজাতীয় খাবারে স্বাভাবিকভাবে fiber থাকে।
  • তৃপ্তি: protein ও fiber-সমৃদ্ধ খাবার পেট ভরা অনুভূতিতে সহায়ক হতে পারে।
  • খাদ্যে বৈচিত্র্য: চাল, সবজি ও অন্য protein source-এর সঙ্গে মিলিয়ে সুষম খাবারের অংশ করা যায়।

MedlinePlus beans ও legumes-কে protein এবং fiber-এর ভালো উৎস হিসেবে উল্লেখ করে। একইভাবে USDA MyPlate beans, peas ও lentils-কে Protein Foods Group-এর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

তবে একটি খাবার কোনো রোগের চিকিৎসা নয়। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা অন্য বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণ থাকলে নিজের চিকিৎসক বা নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুসরণ করুন।

২০২৬ সালে ভালো কলাই আটা কেনার সময় কী দেখবেন?

রুটির স্বাদ অনেকটাই নির্ভর করে আটার গুণমানের ওপর। পুরোনো, স্যাঁতসেঁতে বা অস্বাভাবিক গন্ধযুক্ত আটা ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া কঠিন।

  • উপাদান দেখুন: প্যাকেটে মাসকলাই বা কলাইয়ের আটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না দেখুন।
  • গন্ধ পরীক্ষা করুন: বাসি বা তেলচিটে গন্ধ থাকলে এড়িয়ে চলুন।
  • রং দেখুন: অস্বাভাবিক রং বা ছত্রাকের চিহ্ন থাকা উচিত নয়।
  • প্যাকেজিং দেখুন: আর্দ্রতা ঢুকতে পারে এমন ছেঁড়া প্যাকেট নেবেন না।
  • অল্প করে কিনুন: প্রথমবার হলে ছোট পরিমাণ নিয়ে রুটির স্বাদ ও টেক্সচার পরীক্ষা করুন।

মাসকলাইকে অন্যভাবে রান্নায় ব্যবহার করতে চাইলে মাসকলাই ডাল সম্পর্কিত পণ্যটিও দেখতে পারেন। এতে একই মূল উপাদানকে ডাল, বড়া, ভর্তা বা খিচুড়িতে ব্যবহারের সুযোগ থাকে।

কলাই রুটি বানানোর সময় কোন ভুলগুলো এড়াবেন?

রেসিপিটি দেখতে সহজ হলেও কয়েকটি ছোট ভুল পুরো রুটির টেক্সচার বদলে দিতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পানি ও তাপ নিয়ন্ত্রণ করা।

  • একসঙ্গে বেশি পানি দেওয়া: এতে খামির অতিরিক্ত নরম ও আঠালো হতে পারে।
  • খুব পাতলা রুটি করা: উল্টানোর সময় সহজে ভাঙতে পারে।
  • ঠান্ডা তাওয়ায় দেওয়া: রুটি আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
  • শুধু বেশি আঁচ ব্যবহার: বাইরে দ্রুত পুড়ে গেলেও ভেতর ঠিকভাবে সেঁকা নাও হতে পারে।
  • খামির না মাখা: শুধু পানি মিশিয়েই থেমে গেলে খামিরে ফাটল বেশি হতে পারে।
  • পুরোনো আটা ব্যবহার: স্বাদ ও ঘ্রাণ নষ্ট হতে পারে।

প্রথম রুটি দেখে প্রয়োজন হলে খামির সামঞ্জস্য করুন। প্রথমটি ভেঙে গেলে পুরো খামির ফেলে দেওয়ার দরকার নেই।

কলাই রুটি সংরক্ষণ করা যায় কি?

তাজা ও গরম অবস্থায় কলাই রুটির স্বাদ সবচেয়ে ভালো। তবে প্রয়োজন হলে অল্প সময়ের জন্য ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখা যায়।

  • গরম অবস্থায়: পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।
  • পরে খাওয়ার জন্য: পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার পর ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখুন।
  • পুনরায় গরম: শুকনা তাওয়ায় অল্প সময় দুই পাশ গরম করুন।
  • দীর্ঘ সময় বাইরে নয়: রান্না করা খাবার নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করুন।

রুটি দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়ার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প করে বানালে স্বাদ ও টেক্সচার ভালো থাকে।

আপনি যদি আটা দিয়ে অন্য ধরনের রুটি বানাতে চান, যবের আটার ব্যবহার ও খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কেও ধারণা নিতে পারেন।

কলাই রুটির জন্য আমার পছন্দের উপকরণ

ঘরে কলাই রুটি বানাতে চাইলে প্রথমে মূল উপাদানের গুণমান ঠিক রাখা জরুরি। নিচের পণ্যগুলো রেসিপি বা একই ধরনের দেশীয় খাবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

🏆 মূল রেসিপির জন্য

রাজশাহীর কলাই-এর আটা (Kalai Atta)

রেসিপি-ফিট: ★★★★★

মাসকলাই থেকে তৈরি আটা, তাই ঐতিহ্যবাহী কলাই রুটির মূল উপাদান হিসেবে সরাসরি ব্যবহার করা যায়। রুটির জন্য প্যাকেটের আটা মিহি ও শুকনা আছে কি না আগে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিই।

কলাই আটা দেখুন →

🍲 বহুমুখী ব্যবহার

Mashkalai Dal (মাসকলাই ডাল)

ব্যবহার-ফিট: ★★★★☆

রুটি ছাড়াও ডাল, বড়া, ভর্তা ও অন্যান্য দেশীয় রেসিপিতে মাসকলাই ব্যবহার করা যায়। নিজের মতো গুঁড়া তৈরির পরিকল্পনা থাকলে পরিষ্কার ও ভালো মানের ডাল বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

মাসকলাই ডাল দেখুন →

🌾 বিকল্প রুটির জন্য

Jober Atta (যবের আটা)

বিকল্প-ফিট: ★★★★☆

এটি ঐতিহ্যবাহী কলাই রুটির মূল উপাদান নয়, তবে ঘরে বিভিন্ন ধরনের আটার রুটি তৈরির জন্য একটি বিকল্প। কলাই রুটির স্বাদ চাইলে অবশ্যই মাসকলাইয়ের আটা ব্যবহার করুন।

যবের আটা দেখুন →

কলাই আটার রুটি নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

কলাই রুটি বানাতে কি গমের আটা দিতে হয়?

না, ঐতিহ্যবাহী কলাই রুটিতে গমের আটা বাধ্যতামূলক নয়। মাসকলাইয়ের আটা ও চালের গুঁড়া দিয়েই বানানো যায়, তবে নতুনদের জন্য অল্প গমের আটা যোগ করলে খামির বেলা কিছুটা সহজ হতে পারে।

কলাই রুটি বানাতে গরম পানি নাকি ঠান্ডা পানি ভালো?

কুসুম গরম পানি দিয়ে শুরু করলে গুঁড়া আর্দ্র করা সহজ হয়। তবে পানি একবারে না দিয়ে অল্প অল্প করে দিন, কারণ বিভিন্ন আটার পানি শোষণের ক্ষমতা আলাদা হতে পারে।

কলাই রুটি কতটা মোটা হওয়া উচিত?

কলাই রুটি সাধারণ চাপাতির চেয়ে মোটা রাখা হয়। খুব পাতলা করলে উল্টানোর সময় ভেঙে যেতে পারে, তাই প্রথমবার প্রায় ৪–৬ মিলিমিটার পুরু রাখলে সামলানো সহজ হয়।

কলাই রুটির সঙ্গে কোন ভর্তা সবচেয়ে ভালো?

বেগুন ভর্তা, পেঁয়াজ-কাঁচামরিচ ভর্তা, টমেটো ভর্তা এবং শুকনা মরিচের ভর্তা জনপ্রিয় পছন্দ। ব্যক্তিগত স্বাদ অনুযায়ী সরিষার তেল, ধনেপাতা বা কাঁচামরিচের পরিমাণ বাড়ানো-কমানো যায়।

কলাই আটা আর মাসকলাই আটা কি একই?

বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে মাষকলাই বা মাসকলাইকে স্থানীয়ভাবে কলাই বলা হয়। কলাই রুটির ক্ষেত্রে “কলাই আটা” বলতে সাধারণত মাসকলাই ডাল গুঁড়া করে তৈরি আটাকেই বোঝানো হয়।

শেষ কথা

কলাই আটার রুটি বানানোর নিয়ম কঠিন নয়, তবে সাধারণ গমের রুটির থেকে পদ্ধতিটা একটু আলাদা। ১ কাপ কলাই আটা ও ২ কাপ চালের গুঁড়া দিয়ে শুরু করলে নতুনদের জন্য খামির সামলানো সহজ হয়।

পানি অল্প অল্প করে দিন, খামির ভালোভাবে মাখুন এবং রুটি একটু মোটা রেখে গরম তাওয়ায় সেঁকুন। সঙ্গে ঝাল ভর্তা বা পছন্দের মাংসের পদ রাখলে ঘরেই রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী স্বাদের কাছাকাছি একটি খাবার উপভোগ করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *